Friday, February 18, 2011

পুরনো ধাঁধাঁ – সুকান্ত ভট্টাচার্য


0
বলতে পারো বড়মানুষ মোটর কেন চড়বে?
গরীব কেন সেই মোটরের তলায় চাপা পড়বে?
বড়মানুষ ভোজের পাতে ফেলে লুচি-মিষ্টি,
গরীবরা পায় খোলামকুচি, একি অনাসৃষ্টি?
বলতে পারো ধনীর বাড়ি তৈরি যারা করছে,
কুঁড়েঘরেই তারা কেন মাছির মতো মরছে?
ধনীর মেয়ের দামী পুতুল হরেকরকম খেলনা,
গরীব মেয়ে পায়না আদর, সবার কাছে ফ্যালনা।
বলতে পারো ধনীর মুখে যারা যোগায় খাদ্য,
ধনীর পায়ের তলায় কেন থাকতে তারা বাধ্য?
‘হিং-টিং-ছট’ প্রশ্ন এসব, মাথায় মধ্যে কামড়ায়,
বড়লোকের ঢাক তৈরি গরীব লোকের চামড়ায়

Thursday, February 17, 2011

Sunil Gangopadhyay | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়


নিজের কানে কানে

এক এক সময় মনে হয়, বেঁচে থেকে আর লাভ নেই
এক এক সময় মনে হয়
পৃথিবীটাকে দেখে যাবো শেষ পর্যন্ত!
এক এক সময় মানুষের ওপর রেগে উঠি
অথচ ভালোবাসা তো কারুকে দিতে হবে
জন্তু-জানোয়ার গাছপালাদের আমি ওসব
দিতে পারি না
এক এক সময় ইচ্ছে হয়
সব কিছু ভেঙেচুরে লন্ডভন্ড করে ফেলি
আবার কোনো কোনো বিরল মুঞূর্তে
ইচ্ছে হয় কিছু এককটা তৈরি করে গেলে মন্দ হয় না।
হঠাৎ কখনো দেখতে পাই সহস্র চোখ মেলে
তাকিয়ে আছে সুন্দর
কেউ যেন ডেকে বলছে, এসো এসো,
কতক্ষণ ধরে বসে আমি তোমার জন্য
মনে পড়ে বন্ধুদের মুখ, যারা শত্রুদের, যারাও হয়তো কখনো
আবার বন্ধু হবে
নদীর বিনারে গিয়ে মনে পড়ে নদীর চেয়েও উত্তাল সুগভীর নারীকে
সন্ধের আকাশ কী অকপট, বাতাসে কোনো মিথ্যে নেই,
তখন খুব আস্তে, ফিসফিস করে, প্রায়
নিজেরই কানে-কানে বলি,
একটা মানুষ জন্ম পাওয়া গেল, নেহাৎ অ-জটিল কাটলো না

Sunil Gangopadhyay | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

                             সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম সেপ্টেম্বর ৭, ১৯৩৪) ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের একজন জনপ্রিয় বাঙালি লেখক এবং কবি। তিনি নীললোহিত, নীল উপাধ্যায় এবং সনাতন পাঠক ছদ্মনামেও অনেক লেখা লিখেছেন

 

চোখ নিয়ে চলে গেছে

   এই যে বাইরে হু হু ঝড়, এর চেয়ে বেশী
   বুকের মধ্যে আছে
   কৈশোর জুড়ে বৃষ্টি বিশাল, আকাশে থাকুক যত মেঘ,
   যত ক্ষণিকা
   মেঘ উড়ে যায়
   আকাশ ওড়ে না
   আকাশের দিকে
   উড়েছে নতুন সিঁড়ি
   আমার দু বাহু একলা মাঠের জারুলের ডালপালা
   কাচ ফেলা নদী যেন ভালোবাসা
   ভালোবাসার মতো ভালোবাসা
   দু‘দিকের পার ভেঙে
   নরীরা সবাই ফুলের মতন, বাতাসে ওড়ায়
   যখন তখন
   রঙিন পাপড়ি
   বাতাস তা জানে, নারীকে উড়াল দেয়ে নিয়ে যায়
   তাই আমি আর প্রকৃতি দেখি না,
   প্রকৃতি আমার চোখ নিয়ে চলে গেছে!

কথা আছে

     বহুক্ষণ মুখোমুখি চুপচাপ, একবার চোখ তুলে সেতু
     আবার আলাদা দৃষ্টি, টেবিলে রয়েছে শুয়ে
     পুরোনো পত্রিকা
     প্যান্টের নিচে চটি, ওপাশে শাড়ির পাড়ে
     দুটি পা-ই ঢাকা
     এপাশে বোতাম খোলা বুক, একদিন না-কামানো দাড়ি
     ওপাশে এলো খোঁপা, ব্লাউজের নীচে কিছু
     মসৃণ নগ্নতা
     বাইরে পায়ের শব্দ, দূরে কাছে কারা যায়
     কারা ফিরে আসে
     বাতাস আসেনি আজ, রোদ গেছে বিদেশ ভ্রমণে।
     আপাতত প্রকৃতির অনুকারী ওরা দুই মানুষ-মানুষী
     দু‘খানি চেয়ারে স্তব্ধ, একজন জ্বলে সিগারেট
     অন্যজন ঠোঁটে থেকে হাসিটুকু মুছেও মোছে না
     আঙুলে চিকচিকে আংটি, চুলের কিনারে একটু ঘুম
     ফের চোখ তুলে কিছু স্তব্ধতার বিনিময়,
     সময় ভিখারী হয়ে ঘোরে
     অথচ সময়ই জানে, কথা আছে, ঢের কথা আছে

আমার বাংলার মুখ: Subhas Chandra Bose ( সুভাষচন্দ্র বসু )

আমার বাংলার মুখ: Subhas Chandra Bose ( সুভাষচন্দ্র বসু ): "সুভাষচন্দ্র বসু (জন্ম: ২৩ জানুয়ারি, ১৮৯৭ – তথাকথিত মৃত্যু: ১৮ অগস্ট, ১৯৪৫ (যদিও এই মত বিতর্কিত) ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন..."