Friday, February 18, 2011

সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা


সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা
–: সূচীপত্র :–
 
ছাড়পত্র
  অনুভব
  আগামী
  আগ্নেয়গিরি
  আঠারো বছর বয়স
  ইউরোপের উদ্দেশে
  একটি মোরগের কাহিনী
  খবর
  চট্টগ্রাম : ১৯৪৩
  চারাগাছ
  ছাড়পত্র
  ঠিকানা
  দেশলাই কাঠি
  প্রস্তুত
  প্রার্থী
  বোধন
  মধ্যবিত্ত '৪২
  মৃত্যুজয়ী গান
  রবীন্দ্রনাথের প্রতি
  রানার
  শত্রু এক
  সিগারেট
  সিঁড়ি
  সেপ্টেম্বর '৪৬
  হে মহাজীবন

ঘুম নেই
  ১৯৪১ সাল
  ১লা মে–র কবিতা '৪৬
  অদ্বৈধ
  অনন্যোপায়
  অবৈধ
  অভিবাদন
  অলক্ষে
  আমরা এসেছি
  উদ্বীক্ষণ
  কবিতার খসড়া
  কবে
  দিনবদলের পালা 
 
  নিভৃত  -১
  নিভৃত  -২
  রৌদ্রের গান
  সব্যসাচী
  সূচনা

পূর্বাভাস
  অসহ্য দিন
  আমার মৃত্যুর পর
  আলো–অন্ধকার
  উদ্যোগ
  জাগবার দিন আজ
  নিবৃত্তির পূর্বে
  পূর্বাভাস
  প্রতিদ্বন্দ্বী
  বিভীষণের প্রতি
  মৃত পৃথিবী
  সুতরাং
  স্বতঃসিদ্ধ
  স্বপ্নপথ
  স্মারক
  হদিশ
  হে পৃথিবী

মিঠেকড়া
  অতি কিশোরের ছড়া
  আজব লড়াই
  জ্ঞানী
  পুরনো ধাঁধা
  ভেজাল
  মেয়েদের পদবী
  রেশন কার্ড
  সিপাহী বিদ্রোহ

অপ্রচলিত রচনা
  আজিকার দিন কেটে যায়
  সুচিকিৎসা
  সুহৃদবরেষু
 

আগামী-সুকান্ত ভট্টাচার্য


 
আগামী

জড় নই, মৃত নই, নই অন্ধকারের খনিজ,
আমি তো জীবন্ত প্রাণ, আমি এক অঙ্কুরিত বীজ;
মাটিতে লালিত, ভীরু, শুধু আজ আকাশের ডাকে
মেলেছি সন্দিগ্ধ চোখ, স্বপ্ন ঘিরে রয়েছে আমাকে।
যদিও নগণ্য আমি, তুচ্ছ বটবৃক্ষের সমাজে
তবু ক্ষুদ্র এ শরীরে গোপনে মর্মরধ্বনি বাজে,
বিদীর্ণ করেছি মাটি, দেখেছি আলোর আনাগোনা
শিকড়ে আমার তাই অরণ্যের বিশাল চেতনা।
আজ শুধু অঙ্কুরিত, জানি কাল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতা
উদ্দাম হাওয়ার তালে তাল রেখে নেড়ে যাবে মাথা:
তারপর দৃপ্ত শাখা মেলে দেব সবার সম্মুখে,
ফোটাব বিস্মিত ফুল প্রতিবেশী গাছেদের মুখে।
সংহত কঠিন ঝড়ে দৃঢ়প্রাণ প্রত্যেক শিকড়:
শাখায় শাখায় বাধা, প্রত্যাহত হবে জানি ঝড়;
অঙ্কুরিত বন্ধু যত মাথা তুলে আমারই আহ্বানে
জানি তারা মুখরিত হবে নব অরণ্যের গানে।
আগামী বসন্তে জেনো মিশে যাব বৃহতের দলে;
জয়ধ্বনি কিশলয়ে : সম্বর্ধনা জানাবে সকলে।
ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই—জানি আমি ভবী বনস্পতি,
বৃষ্টির, মাটির রসে পাই আমি তারি তো সম্মতি।
সেদিন ছায়ায় এসো : হানো যদি কঠিন কুঠারে,
তবুও তোমায় আমি হাতছানি দেব বারে বারে;
ফল দেব, ফুল দেব, দেব আমি পাখিরও কূজন
একই মাটিতে পুষ্ট তোমাদের আপনজন॥
 

সুকান্ত ভট্টাচার্য


 
অনুভব

১৯৪০
অবাক পৃথিবী ! অবাক করলে তুমি
জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি ।
অবাক পৃথিবী ! আমরা যে পরাধীন
অবাক কি দ্রুত জমে ক্রোধ দিন দিন ;
অবাক পৃথিবী ! অবাক করলে আরো—
দেখি এই দেশে অন্ন নেইকো কারো ।
অবাক পৃথিবী ! অবাক যে বারবার
দেখি এই দেশে মৃত্যুরই কারবার ।
হিসেবের খাতা যখনই নিয়েছি হাতে
দেখেছি লিখিত— 'রক্ত খরচ' তাতে ;
এদেশে জন্মে পদাঘাতই শুধু পেলাম,
অবাক পৃথিবী ! সেলাম, তোমাকে সেলাম !

১৯৪৬
বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে,
আমি যাই তারি দিন–পঞ্জিকা লিখে,
এত বিদ্রোহ কখনো দেখেনি কেউ,
দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ ;
স্বপ্ন–চূড়ার থেকে নেমে এসো সব —
শুনেছ ? শুনছ উদ্দাম কলরব ?
নয়া ইতিহাস লিখছে ধর্মঘট,
রক্তে রক্তে আঁকা প্রচ্ছদ–পট ।
প্রত্যহ যারা ঘৃণিত ও পদানত,
দেখ আজ তারা সবেগে সমুদ্যত ;
তাদেরই দলের পেছনে আমিও আছি,
তাদেরই মধ্যে আমিও যে মরি–বাঁচি ।
তাইতো চলেছি দিন–পঞ্জিকা লিখে—
বিদ্রোহ আজ ! বিপ্লব চারিদিকে ॥
 সুকান্ত ভট্টাচার্য

পুরনো ধাঁধাঁ – সুকান্ত ভট্টাচার্য


0
বলতে পারো বড়মানুষ মোটর কেন চড়বে?
গরীব কেন সেই মোটরের তলায় চাপা পড়বে?
বড়মানুষ ভোজের পাতে ফেলে লুচি-মিষ্টি,
গরীবরা পায় খোলামকুচি, একি অনাসৃষ্টি?
বলতে পারো ধনীর বাড়ি তৈরি যারা করছে,
কুঁড়েঘরেই তারা কেন মাছির মতো মরছে?
ধনীর মেয়ের দামী পুতুল হরেকরকম খেলনা,
গরীব মেয়ে পায়না আদর, সবার কাছে ফ্যালনা।
বলতে পারো ধনীর মুখে যারা যোগায় খাদ্য,
ধনীর পায়ের তলায় কেন থাকতে তারা বাধ্য?
‘হিং-টিং-ছট’ প্রশ্ন এসব, মাথায় মধ্যে কামড়ায়,
বড়লোকের ঢাক তৈরি গরীব লোকের চামড়ায়