Tuesday, April 16, 2013

বাতাসে লাশের গন্ধ - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ


বাতাসে লাশের গন্ধ

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো-
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার,আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী, 
স্বাধীনতা - একি তবে নষ্ট জন্ম ?একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন। 
বাতাসে লাশের গন্ধ
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দুলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ -
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়
এ চোখে ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার, নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমি
ঘুমুতে পারিনা…রক্তের কাফনে মোড়া - কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা, সে আমার স্বজন হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন -
স্বাধীনতা - আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।

Sunday, April 7, 2013

প্রবন্ধ | Anandabazar


আমরা মাতামাতি না করলেই ওঁদের মঙ্গল

দোহাই, শাহবাগ প্রাঙ্গণে ভিড় জমানো জনগণের প্রতি একাত্ম হওয়ার আগ্রহে এমন কিছু যেন আমরা করে না ফেলি, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই মস্ত ক্ষতি করে বসবে।

অশোক মিত্র
কলকাতা, ৩ এপ্রিল ২০১৩

probondho
আমাদেরও? অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর সামনে। কলকাতা, মার্চ ২০১৩। ছবি- প্রদীপ আদক।
ঢাকা শহরের উত্তর উপকণ্ঠে শাহবাগ প্রাঙ্গণে অহোরাত্র মাতৃভাষা-প্রেমিকরা জড়ো হয়ে আছেন, তাঁরা প্রেরণার গান গাইছেন, প্রতিজ্ঞার গান গাইছেন, একটির পর আর-একটি কবিতা আবৃত্তি করে যাচ্ছেন, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, অথবা নজরুলের, দুই বাংলার ঘরে ঘরে যে-সব কবিতা প্রতিদিন মন্ত্রের মতো উচ্চারিত হয় সে-সমস্ত কবিতা। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের গানের প্লাবনে প্রাঙ্গণ ভেসে যাচ্ছে, যাঁরা জড়ো হয়েছেন, হচ্ছেন, আগামী দিনেও হবেন তাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ যত ষড়যন্ত্রই হোক, যত নতুন নতুন বাধা পথ রোধ করে দাঁড়াক না কেন, যে মাতৃভাষার স্বপ্ন বুকে জড়িয়ে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন, জয়লাভ করেছিলেন, গোটা পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন মাতৃভাষায় কী অমৃতের স্বাদ, সেই ভাষা তাঁদের জন্মগত অধিকার, কোনও দুশমনই ছিনিয়ে নিতে পারবে না। এ-পার বাংলায় আমরা যারা অধিষ্ঠান করছি তারা টেলিভিশনে-সংবাদপত্রে শাহবাগ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ঘটনাবলির প্রতিবেদন দেখে এবং পড়ে উজ্জীবিত হই, কারও কারও হয়তো সাধ জাগে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে গিয়ে সেই জমাট ভিড়ের শরীরে নিজেদের মিলিয়ে দিই।
এখানেই সমস্যা আমরা বঙ্গভাষী হতে পারি, কিন্তু একটি ভিন্ন দেশের নাগরিক। ওখানকার ঘটনাবলির ছবি টেলিভিশনের পর্দায় আমরা যেমন এখানে বসে দেখি, শাহবাগ প্রাঙ্গণে অবস্থানকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে কলকাতায় যে-সব সভাসমিতি হচ্ছে, মিছিল শোভাযাত্রা বেরোচ্ছে, সে-সবের ছবিও বাংলাদেশ পৌঁছয়, শাহবাগ প্রাঙ্গণে অবস্থানরতদের যাঁরা ঘোর বৈরী, তাঁদের কাছেও পৌঁছয়, অপপ্রচারের দক্ষিণ দুয়ার উন্মোচিত হয়। হিন্দু ভারতবর্ষের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কতিপয় দেশদ্রোহী ইসলামের বিরুদ্ধে, আরব ভাষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, শাহবাগ প্রাঙ্গণে জমায়েত হওয়া কুচক্রীদের প্রেরণা জোগানো হচ্ছে হয় কলকাতা থেকে নয় নতুন দিল্লি থেকে, বাংলাদেশকে ভারতবষের্র সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার অভিপ্রায়ে এটা অন্যতম প্রাথমিক উদ্যোগ।
একটু পুরনো বৃত্তান্তে প্রত্যাবর্তন করি। পাকিস্তাান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই মহম্মদ আলি জিন্না ঢাকা শহরে এলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে সভা হল। ছাত্রদের ভিড়ে সভাগৃহ ঠাসা। জিন্না সাহেব চোস্ত ইংরেজিতে সুস্পষ্ট ঘোষণা করলেন, পাকিস্তানের জাতীয় ভাষা একমাত্র উর্দু, অন্য কোনও ভাষা নয়। সঙ্গে সঙ্গে সারা কার্জন হল কাঁপিয়ে উচ্চনিনাদে ছাত্রদের নম্র অথচ সুদৃঢ় প্রতিবাদ, ‘কায়েদে আজম জিন্দাবাদ, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। জিন্নার মুখমণ্ডল থমথমে, তিনি আর একটি কথাও উচ্চারণ না-করে সভা থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন। সেই তো শুরু, মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন সংহত থেকে সংহততর হল, ১৯৫২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হত্যালীলায় যুগান্তের সূচনা, ঘরে ঘরে মাতৃভাষা-বন্দনা, ছেলেমেয়েরা বাবামায়েদের বোঝায়, আত্মীস্বজনদের কাছে যুক্তি দাখিল করে, যে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া বা শোনা সাধারণ্যে নিষিদ্ধ, গোপন শিক্ষায়তন খুলে তার অদম্য তালিম চলে। তার পর প্রায় দু’দশক ধরে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের চোরাগোপ্তা লড়াই, যে লড়াই উপসংহারে পৌঁছেছে একাত্তর সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখে। জামাতপন্থী অতি সামান্য কিছু মানুষজনকে বাদ দিলে গোটা জাতি একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকদের মাতৃভাষায় শিক্ষিত হওয়ার, পারস্পরিক বিনিময়-প্রতিবিনিময়ের এবং জীবিকার্জনের প্রধান মধ্যবর্তিতা স্বতঃসিদ্ধ হিসাবে মেনে নিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই ধারা অব্যাহতই ছিল। অস্বীকার করে লাভ নেই, বাংলাভাষার উন্মেষ ও ইতিহাস নিয়ে যত তন্নিষ্ঠ চর্চা বাংলাদেশে গত কয়েক দশক ধরে হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তার ছিঁটেফোটাও হয়নি। মাতৃভাষার ব্যাকরণ, বাক্য গঠন, ক্রিয়া প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যে গবেষণার স্তূপ বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গবাসী তা জেনে লজ্জা পাবেন। বাংলাদেশের মন্ত্রী বা আমলারা তাঁদের ভাষণে মাতৃভাষার যে বিশুদ্ধতা বজায় রাখেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদ ও প্রশাসকরা তা থেকে পর্যাপ্ত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। এমনকী ঘরোয়া কথোপকথন ও আলোচনায় যে পরিস্রুত বাংলা ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে শ্রুত হয়, এ বাংলায় আমরা বিস্ময়ে অভিভূত না-হয়ে পারি না।
এই বিবর্তন সবাই ঔদার্যের সঙ্গে মেনে নিয়েছিলেন, সেই সঙ্গে কিছু প্রচ্ছন্ন বা অপ্রচ্ছন্ন আত্মগরিমাবোধও ছিল। হঠাৎ ঈশান কোণে মেঘ দেখা দিয়েছে ঘরোয়া রাজনীতির সূত্র ধরে। মুক্তিযুদ্ধ পর্বে অনেক বর্বর নৃশংসতা ঘটেছে, যাঁর শেষ পর্যন্ত অখণ্ড পাকিস্তান তত্ত্বে বিশ্বাস করতেন, তাঁরা ১৯৭১ সালের পর কিছু দিন গা-ঢাকা দিয়েছিলেন, আস্তে আস্তে গর্ত থেকে বেরিয়ে এসেছেন। অভিযোগ, এঁদের কেউ কেউ পাকিস্তানি চর হিসেবে নিজেদের নিযুক্ত করে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে সে-সময় ধরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের উপর বীভৎস অত্যাচার চালানো হয়েছিল, অনেককে নারকীয় কায়দায় খুন করা হয়েছিল পর্যন্ত। এই পর্বে যাঁরা শহিদ হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ যেমন ছিলেন, সেই সঙ্গে একগুচ্ছ আইনজীবী, শ্রমিক বা কৃষক নেতার মতো মানুষজনও ছিলেন।
চার দশক গড়িয়ে গেছে। কিন্তু প্রিয়জনদের অমনধারা নিধন যাঁরা মেনে নিতে পারেননি, তাঁরা এতগুলি বছর ধরে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন, তাঁদের আত্মজনদের নিধনে যারা প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষ ভাবে অংশীদার ছিল, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের ব্যবস্থা করবেন, ফাঁসিতে লটকাবেন পর্যন্ত। তাঁদের অধ্যবসায় এত দিনে এক অর্থে সার্থক। এ-রকম কিছু অপরাধীকে চিহ্নিত করা গেছে, একটি বিশেষ আইন প্রয়োগ করে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি কয়েক জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে পর্যন্ত। এখানেই বিপত্তির উদ্ভব। বিশেষ আইনটি প্রয়োগ করার প্রশ্নে বাংলাদেশ যেন দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছর আগে সংগঠিত অপরাধের জন্য এখন প্রাণদণ্ডের বিধান কতটা যুক্তিযুক্ত তথা ন্যয়সঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, দু’দিকেই যুক্তি-প্রয়োগে আবেগের সংমিশ্রণ। যুদ্ধকালীন অপরাধের জন্য প্রাণদণ্ড ঘোষণার এই নিদান প্রধান বিরোধী বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির আদৌ পছন্দ নয়। তাঁদের সন্দেহ, এই আইনের অপপ্রয়োগ ঘটতে পারে এবং শাসকগোষ্ঠীর না-পসন্দ অনেককেই হয়তো এই অপপ্রয়োগ-বলে পদে-পদে জেরবার হতে হবে। গোলমেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এরই মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির নেত্রী আইনটির প্রতিবাদে দেশ জুড়ে হরতালের ডাক দিলেন। হঠাৎ ভারত সরকারের একটি অবিবেচনার জন্য বিদেশ নীতির ঘোলা জল আর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল একাকার হয়ে গেল। বাংলাদেশ জুড়ে তর্কবিতর্ক চলছে, সুযোগ বুঝে জামাতপন্থীরা বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির সঙ্গে আলতো গাঁটছড়া বাঁধছেন বা বাঁধার চেষ্টা করছেন এমন অবস্থায় কোনও কৌশলে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সফর স্থগিত রাখতে পারতেন, তা করা হল না। জামাতপন্থীদের ফের মাথা তুলে দাঁড়াবার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে শাহবাগ প্রাঙ্গণে মাতৃভাষা-অনুরাগীরা জড়ো হতে থাকলেন। অতি পবিত্র তাঁদের উচ্চারণ, ধর্মান্ধদের রোষ থেকে তাঁরা মাতৃভাষাকে সর্বপ্রহর রক্ষা করবেন, প্রতিজ্ঞার বহু বর্ণিল দীপ্তিতে শাহবাগের আকাশ রঞ্জিত। কিন্তু তা হলেও একটি শূন্যতাবোধ: বেগম জিয়ার সমর্থকরা এখানে গরহাজির, জাতির একটি অতুচ্ছনীয় অংশের প্রতিনিধিরা অনুপস্থিত।
এটা ভাবনার কথা। এর সঙ্গে যা যোগ করতে হয় মাতৃভাষার জন্য এই যে নতুন সংগ্রাম তা কিন্তু তাঁদেরই একান্ত। একষট্টি বছর আগে ছাত্রদের রক্তে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ প্লাবিত হয়, তখন ভারতবর্ষীয় আমরা কেউ ধারেকাছে ছিলাম না। ধীরে ধীরে সেই ছাত্র অভ্যুত্থান জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের আদল পেয়েছে, সেই আন্দোলনের একেবারে শেষ মুহূর্তে ভারতবর্ষ থেকে খানিকটা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শাহবাগ প্রাঙ্গণে যে নতুন একটি আবেগের স্ফূরণ, তা-ও কিন্তু ও-পার বাংলার মানুষদের সত্তার গভীর থেকে উৎসারিত। গত পঞ্চাশ ষাট বছরে বার্তা বিনিময় প্রতিবিনিময়ে অনেক প্রগতি ঘটেছে। আগের সন্ধ্যায় শাহবাগ প্রাঙ্গণে কে কী বললেন, কে কী গাইলেন, যূথবদ্ধ কী অঙ্গীকার করা হল, সমস্ত খবরই পর দিন সকালে কলকাতায় বসে আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে পারি। বাঙালি আবেগের আমরাও তো অংশভুক, আমাদের অনেকেরই মধ্যে বাসনা জাগতে পারে শাহবাগ প্রাঙ্গণের সম্মিলিত উচ্চারণের সঙ্গে আমাদের উচ্চারণ মিলে যাক, আমরাও যেন অ্যাকাডেমির বাইরের প্রাঙ্গণে দ্রুত-ছায়া-নেমে-আসা অপরাহ্ণে শাহবাগ প্রাঙ্গণের অঙ্গীকৃত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে গলা মেলাই। কিন্তু ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি তাঁর সফরেরে তারিখ না-পাল্টে যে ভুল করেছেন, আবেগের বশে মুহ্যমান হলে তারই আর এক দফা মাসুল গুনতে হবে। শাহবাগ প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া বন্ধুদের যাঁরা রাজনৈতিক শত্রু, তাঁরা গলা ফাটিয়ে প্রমাণ করতে চাইবেন, বাংলাদেশের আকাশে যে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, গোপনে ও প্রকাশ্যে তার ইন্ধন জোগাচ্ছে দুশমন ভারতীয়রা।
দোহাই, শাহবাগ প্রাঙ্গণে ভিড় জমানো জনগণের প্রতি একাত্ম হওয়ার আগ্রহে এমন কিছু যেন আমরা না-করে ফেলি, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই মস্ত ক্ষতি করে বসবে, বাংলাদেশের লড়াইটা বাংলাদেশিদেরই লড়তে দিন না কেন!
ভয়ে-ভয়ে অন্য একটি অনুরোধ কি করতে পারি? আপনি যদি যে-কোনও প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত হতে আঁকুপাঁকু বোধ করছেন, একটা কাজ করুন না কেন। সম্ভ্রান্ত সচ্ছল ঘরের যে বাঙালি বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানদের যাতে এমনকী মাধ্যমিক স্তরেও ওই বিতিকিচ্ছিরি বাংলা ভাষায় তালিম দিতে না হয়, তার জন্য কলকাতা জুড়ে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামুন না!
 আনন্দবাজার পত্রিকা 
 

বিতর্ক - সিপিএমের 'এই চেহারা' তৃণমূলের দীর্ঘ ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।


Share on emailMore Sharing Servic

buddha and bimanসিপিএমের 'এই চেহারা' তৃণমূলের দীর্ঘ ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।


পক্ষে: কথাটা ১০০ শতাংশ সত্যি। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকার অনেক ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত ব্যর্থ। পরিবর্তন এখন অভিশপ্ত। রাজ্য জুড়ে নানা বিশৃঙ্খলা। কিন্তু বিকল্প হিসেবে যাদের দিকে তাকাই, সেই ব্যক্তিদের আর কিছুই দেওয়ার নেই। বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, নিরুপম সেনরা রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। তাঁদের এখন বনবাসে যাওয়ার সময়। সিপিএম পার্টি দেউলিয়া। অন্য বামদলগুলি তার পরগাছা। বৃদ্ধ অশোক ঘোষ থেকে বাকি বাম নেতারাও অচল আধুলি। বাম দলগুলিতে কোনও তাজা রক্ত নেই। কসবার নবীন কমরেড শতরূপ ঘোষ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও তাজা রক্তকেই 'উঠতে' দেওয়া হচ্ছে না। বাঙালি কাঁকড়ার মতো ক্ষমতা দখল করে পার্টির উপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন পলিটব্যুরোর 'পলিটিক্যালি বুড়োরা'। নেই কোনও ভাল মহিলা নেত্রীও। রেজিমেন্টেড পার্টির হাইকমান্ড হয়ে উঠেছেন প্রকাশ কারাট। প্রকাশ-বৃন্দার ইচ্ছেতেই চলে পার্টি। পার্টিতে বাঙালি নেতাদের কদরই নেই। বুদ্ধ-বিমান-নিরুপম-সেলিমের মতো তিন দশকের পুরনো মুখ আর তাঁদের মুখ নিঃসৃত শূন্যগর্ভ বাণীগুলি শুনে রাজ্যবাসী ক্লান্ত, হতাশ। তাই বিপথগামী ও ব্যর্থ তৃণমূলের 'দীর্ঘ' ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছে এই দিশাহীন ভগ্ন, ন্যুব্জ চেহারার সিপিএমই।

বিপক্ষে: সিপিএম এই চেহারা নিয়েই ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ সিপিএমের পায়ে শক্ত জমি দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তাঁর মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া, কাজকর্ম এমনই ভুলে ভরা যে এই দিশাহীন, ভগ্ন, ন্যুব্জ সিপিএমকেই দিশা ও শক্তি দেবে সেগুলি। ধর্ষণ, খুন, দুর্ঘটনা সবেই সিপিএমের চক্রান্তের ভূত দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তার উপর সিপিএম সুলভ রেজিমেন্টেড কায়দায় 'দল চালাচ্ছে' এবং ভোটের সময় 'ভোট করাচ্ছে' তৃণমূল। যা ভালভাবে নিচ্ছে না মানুষ। দাদাগিরি দেখে দু বছরেই পরিবর্তন নিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে রাজ্যবাসীর। তাই বৃদ্ধাশ্রম হয়ে যাওয়া আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ধীরে ধীরে শক্তি ও জমি ফিরে পাচ্ছে। এভাবে চললে পরের বিধানসভাতেই ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে তৃণমূল। তার আগে লোকসভা বা পঞ্চায়েতেও অগ্নিপরীক্ষার মুখে 'কংগ্রেস বিহীন' তৃণমূল। তাই দীর্ঘ ক্ষমতায়ন হবে না। কারণ দলটার নাম তৃণমূল।

Wednesday, March 27, 2013

চলতি হাওয়া | Anandabazar


 আমার আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে সংগৃহীত 

ধরলে আজ তোমায় ছাড়ব না

অনির্বাণ চৌধুরী
কলকাতা, ২৬ মার্চ, ২০১৩

dol party songs
হুল্লুড়ে পার্টি করাই বিধেয়- শাস্ত্র এই বলছে, সামাজিকতাও। ছবি- অরণ্য সেন।
রাধা আর কৃষ্ণ নামে দুই ছোঁড়াছুঁড়ি নিয়ম করে রঙ নিয়ে যেই ধুম মাচিয়েছিল ইউপি মহল্লায়, তখন থেকেই সেটাই হয়ে দাঁড়াল দোল দিনের পার্টি করার সনাতনী প্রথা। তালিকায় বাকি ছিল কেবল বাঙালি কবিগুরুর অমোঘ ফরমান- 'আজ সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে'! ভাবটা এই, না মেশালে আমার ঘেঁচু, তবে তোমার অনেক কিছু। অতএব, সব দিক মেপেজুপে সবাই যখন সাধছেই, তখন দোলের দিন প্রচুর রঙ দেওয়া, প্রচুর রঙ নেওয়া আর হুল্লুড়ে পার্টি করাই বিধেয়- শাস্ত্র এই বলছে, সামাজিকতাও। ওই ঠাকুরের লেখা ভাবুন, মনে পড়বে পুরনো কলকাতায় বিহারি দারোয়ানদের ঢোল বাজিয়ে নেচেগেয়ে রঙখেলার পার্টি। হুতোম প্যাঁচার নকশা বলছে জেলেপাড়ার সঙ-এর পার্টির পথে নামার কথা; যাদের ধেই নাচন দেখার জন্য ভিড় করেছে আমোদগেঁড়ে বাঙালি। ইতিহাস বলছে রাজা নবকৃষ্ণ দে-র বাড়ির দোলের সন্ধের বাঈনাচের কথা; সব দর্শক কনিয়াক হাতে সাহেবসুবো।সে দিন গেলেও ফূর্তি করার মনটা তো আর চলে যায়নি। সো, লেটস প্লে হোলি!তা, দোলের পার্টিতে গান হবে না- এ আবার কেমনধারা ব্যাপার? কী গান বাজাবেন, লিস্টি মিলিয়ে নিন।  পথে করে গমন। এই উদ্দামতা আসবে না মার্গসঙ্গীত বা ঠাকুরের গানে; তাই ডাইভ মারুন সিনেমাতেই। পার্টি পুরো জমে যাবে!
লাইসেন্সড অ্যাডালটারির গান : জানি, দোলের সকালের পার্টিতে না বললেও 'সিলসিলা' ছবির 'রঙ বরসে ভিগে চুনরওয়ালি' বাজবেই। শুধু দোহাই আপনাদের, এই গানটা দিয়ে পার্টি শুরু করবেন না- নিজেদের উচ্ছ্বাসই নিজেদের কাছে মেকি মনে হবে। আহা, পার্টি ওয়ার্মিং বলেও তো একটা ব্যাপার আছে; পার্টি করবেন আর তার নিয়ম মানবেন না- তা আবার হয় নাকি! এই গান হবে নেশা পুরো চড়ে গেলে; গেলাস গেলাস সনাতনী প্রথায় ভাঙ আর আধুনিকতায় ভদকা চড়িয়ে। তারপর শরীর-মন দুই যখন টলোমলো; নিজেকে সঁপে দিন ব্যারিটোন ভয়েসের কাছে। মাথায় থাকুক রাধা নামের পরের বউটাকে নিয়ে গিরিধারী নাগরের ঢলাঢলি; মাথায় থাকুক আয়ান ঘোষের অপ্রস্তুতের হাসিও। ভেবে নিন কেবল রেখা-অমিতাভ বচ্চন আর সঞ্জীব কুমার। ধর্মই যখন খোদ ছুঁকছঁকানির লাইসেন্স দিচ্ছে, প্রাণ খুলে রঙ মেখে অ্যাডালটারি করুন। তবে এই গানটা শুরুতে নয়। কোনটা তাহলে হতে পারে উদ্বোধনী সঙ্গীত?
অনুরোধের আসর : আমি বলি কী, কানু বিনে নয়, অমিতাভ বচ্চন বিনে ঠিক যেন দোলের পার্টির গানের নখরা জমে না। পার্টি শুরু করার জন্য তাই বেছে নিন ওই বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখানো 'ওয়াক্ত' নামের এক ছবির গান- 'ডু মি আ ফেভার, লেটস প্লে হোলি'। অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অক্ষয় কুমার আর পিগি চপসও বহুত রঙঢং দেখিয়েছিলেন এই গানটায়। ভাবছেন নিশ্চয়ই, বুরবকটা শুরুতেই এই কম জনপ্রিয় গানটার কথা কেন বলল? তা আপনিই ভেবে দেখুন, সবাই কি আর পার্টি শুরু করার জন্য চেগে থাকবে? হোস্ট হিসেবে আপনাকেই তো জমিয়ে তুলতে হবে কেওড়াবাজি। আহা, শুরুটা করুনই না আলতোভাবে গলা ভেজাতে ভেজাতে; ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে তো আর কেউ বারণ করছে না।
বউদিবাজির দোল : পার্টি এবার খাতায়-কলমে যখন শুরু হয়েই গেছে, তখন তানানানা করে লাভ কি? ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজান বলিউডের পেটেন্ট বউদিবাজির দোলের গান; 'শোলে' ছবির 'হোলি কে দিন দিল খিল যাতে হ্যায়'। বউদিবাজি এই গানের শব্দে-সুরে-চিত্রায়ণে সব জায়গায়। শুরুতেই তো এক মাতাল গ্রামের বউদির গায়ে ঢলে পড়ে বলেছে, 'ঠহের যা ভাবি'! বউদি অবশ্য বেশ কুলকাল, চাট্টি নথনাড়া দিয়ে সে 'আরে যা শরাবি' বলেই সটকে পড়েছে। আবার বীরু-বাসন্তী যখন নিজেদের রঙ মাখাতে ব্যস্ত, জয়ও তো তখন ঝাড়ি মেরেছে বিধবা বউদিকে। মন চাইলে আপনিও তার লাইসেন্স নিন; শুধু কবির মতো ঘরে খুঁজবেন না বাইরে- সে চিন্তা আপনার। বউদি অমিল হলেও ক্ষতি নেই, গানটার হুল্লোড় ঠিক টেনে নিয়ে যাবে রঙিন দুনিয়ায়। শুধু হ্যাঁ, মাঝে মাঝেই গলা ভেজাতে যেন ভুল না হয়।
ভয় পেও না, ভয় : আপনাদের হুল্লোড় দেখে কি কোনও অতিথি ভড়কে গেছেন? না ভড়কালেও মাত্তর দুটো গানে সবার আড় ভাঙবে- এটা আশা করা অন্যায়। তা বাদেও এমন কেউ পার্টিতে থাকতেই পারেন, রঙ যাঁর পছন্দ নয়। তাঁকে অভয় দিন; ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজিয়ে দিন 'একান্ত আপন' ছবির 'খেলব হোলি রঙ দেব না '! নইলে আপনারই পার্টির একশো আট বার হল বলে; একদল নেশাড়ুর মধ্যে সাদা মাথার কেউ তো আসলে হংস মধ্যে বক যথাই। তাছাড়া, বাঙালির দোলে বাংলা গান বাজবে না, 'তাও কখনও হয়'? এই গান বাজিয়ে, সবার আড় কাটিয়ে তারপর চলে যান 'রঙ বরসে'-তে। এটাই শেষ বার নয়; এর পর থেকে ঘুরে ফিরে সারা পার্টিতেই বাজতে পারে এই গান। তারপরে কিম কর্তব্য?
দুলকি চালের ফিমেল ফিভার : ভেবে দেখলে, দোলের গানের সবকটাতেই বড্ড পুরুষের গা-জোয়ারি গন্ধ। সংবিধানে যখন সমান অধিকার, দোলের মতো একটা পার্টিতে থাকবে না? মেয়েরা একজোট হন, কয়েক পা পিছিয়ে ধাঁ করে চলে যান রেট্রোযুগে, সম্বল করুন 'বসন্ত বিলাপ' ছবির 'ও শ্যাম যখন তখন'। ‘খেলব হোলি’ গানটা দিয়েই শুরু হয়ে গেছে উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট; এবারে মৃদু ভড়কি দিয়ে বোঝানোর পালা, 'যখন তখন, খেলো না খেলা এমন, ধরলে আজ তোমায় ছাড়ব না'। একজন মেয়েই দোলের দিনে মদির চাউনিতে শুইয়ে দিতে পারে একদল পুরুষকে, জোট বাঁধলে কার সাধ্য ঘাঁটিয়ে বিপদ আনে? তাছাড়া এতক্ষণের হইচই একটু শান্ত হবে এই দুলকি চালে; দোলের দিনে খরগোশ হওয়ার বদলে কচ্ছপ হওয়াই ভাল- সারা দিনটা পড়ে আছে যে!
আরেকটা বসন্ত বিলাপ : 'অ্যাকশন রিপ্লে' ছবিতে নিদারুণ বসন্তে দারুণ বিলাপ করতে করতে একটা দোলের গানে নেচেছিলেন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন আর নেহা ধুপিয়া, 'জ্বলি তো বুঝি না কসম সে কোয়লা হো গয়ি'! মনসই ছেলে না পেয়েই এই হাহাকার। সেটুকু ছেঁটে হুল্লোড়টুকু নিয়ে উদ্দামতার ট্র্যাকে ফিরে আসুন এই গানটা দিয়েই, বেশ একচোট ধেইধেই করতে এ গানের কোনও জুড়ি নেই। ছেলেরা অবিশ্যি দারুণ ফ্রাস্টু খাবেই এ গান বাজালে- সারা বছর যখন তাদের মুর্গি করেন মেয়েরা, দোলের দিনেই বা ছেড়ে দেবেন কেন?
ব্যাক টু বচ্চন : দোলের লুচি-মালপোয়ার মতো না ফুলে পাত্তা আদায় করার জন্য আর পার্টি আরও জমাবার জন্য বচ্চন সাহেবের গানেই যাওয়া ভাল। বেছে নিন তাই 'বাগবান' ছবির 'হোলি খেলে রঘুবীরা অবধ মে'। শাহি হোলিতে তো শুধুই রাধাকৃষ্ণ কথা; রামসীতার দোলের উদ্দামতাও সঙ্গে থাকুক না। অপশন যখন আছে, সুযোগ কেউ ছাড়ে? তাছাড়া পার্টির এই পর্যায়ে এসে হুল্লোড় বাড়ানোর জন্য ব্যারিটোন ভয়েসের কোনও বিকল্প হয় না। আর বচ্চন হয়েই সোজা চলে যান বলিউডের বাদশার শাহি দোলে; শিফট করুন আদরে, ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজান 'ডর' ছবির 'অঙ্গ সে অঙ্গ লগানা/সাজন হমে অ্যায়সে রঙ লগানা'। বাউল-ফকিররা যে কামে-প্রেমের রঙে রঙিন হয়ে মশগুল, আপনিও সেই রঙের আলতো ছোঁওয়ায় রাঙিয়ে দিয়ে যান মনের মানুষটিকে। এবার তার নেশা দিনান্তেও নামবে কিনা, সেটা আমার পক্ষে বলা মুশকিল!
গান ভালবেসে গান : পা থেকে মাথা পর্যন্ত আপনি যখন রঙিন আর টলোমলো এবং পার্টির দশা হেই সামালো, তখন সঙ্গত করবে কোন গান? এ বড় দ্বন্দ্বের সময়। আপনি হয়তো বলবেন, 'হোলি আয়ি হ্যায়, আয়ি হ্যায়, হোলি আয়ি হ্যায়' গানটা বাজানোর কথা আর বাকিরা বলবেন, ওটা হোলি নয়, চিটঠি হবে ইত্যাদি প্রভৃতি, তখন কি হাতে থাকবে কেবল রঙের দাগ আর গেলাস? কে বলেছে এ কথা? সে বড় সুখের সময়ে সঙ্গে থাক 'মহব্বতে' ছবির 'হম তেরে দিওয়ানে হ্যায়'- নেশাগ্রস্ত মানুষমাত্রই জানেন প্রলাপের মূল্য। তারপর চলুক 'মঙ্গল পাণ্ডে' ছবির 'হোলি রে'; আহা, আবার একটানা ধুমে ছেদ পড়ে কেন? বেশ করে নেচেকুঁদে এক এক করে চান করতে যাওয়ার সময়ে বিশ্রামের মাঝে শুনতে পারেন 'নমক হারাম' 'নদিয়া সে দরিয়া' গানটাও; শুধু কাকার ভক্তদের বলি, বেশি সেন্টি না হওয়াই ভাল- ভাঙ খেলে কান্না থামার লক্ষণ কম। তারপর খেয়েদেয়ে একটু গড়িয়ে তৈরি হন সান্ধ্য মোচ্ছবের জন্য; আকাশ জুড়ে চাঁদ উঠবে যখন, তখন আপনি তার রঙে রঙ মেশাবেন না?
নিধুবাবু আর বাঙালিয়ানা : দোলের আসল পার্টি রঙ মাখায় নয়, বরং রঙিন হয়ে মজলিশি হওয়ায়- এই কেতাই বরাবর রপ্ত করে এসেছে শহর কলকাতা। দোলের দিন সকালে তাই যা খুশি করে নিয়ে সন্ধেবেলায় ফরাস পেতে ছাদে, বাগানে বা বারান্দায় বসুন দলবলের সঙ্গে আরেক প্রস্থ পানীয় নিয়ে। সঙ্গে থাকুক গড়গড়া। বৃথা হামাগুড়ি দিয়ে বাড়ি পৌঁছাতে চাওয়ায় কী বা লাভ! আর থাকুক রামকুমার মুখোপাধ্যায়-এর সুরে নিধুবাবুর টপ্পার বোলচাল। মন চাইলে আসুক ভানুসিংহের পদাবলী, দ্বিজেন্দ্রগীতি বা অতুলপ্রসাদের সুর। বসন্তের এই মাতাল সমীরণে সবার রঙে রঙ না মেশালে যে গুরুজনের কথার খেলাপ হবে!